শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৩:১০ পূর্বাহ্ন

সাম্মাম চাষে সৌদি প্রবাসী নওগাঁর রেজাউলের সফলতা

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২০
Featured Video Play Icon

সাম্মাম চাষে সৌদি প্রবাসী নওগাঁর রেজাউলের সফলতা, সৌদি আরবের মরুভুমির বালুর ‘সাম্মাম’ ফল চাষ হচ্ছে নওগাঁর মাটিতে। এই ফল চাষের জন্য মরুভুমির বালি প্রসিদ্ধ হলেও বর্তমানে বাংলাদেশের মাটিতে এই ফল চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখছে কৃষি বিভাগ। এই প্রথম আমাদের দেশের মাটিতে মালচিং পদ্ধতিতে চাষ হচ্ছে এই মরুর ফল সাম্মাম। দেখতে অনেকটা তরমুজের মতো। বিদেশী এই ফল দেশের মাটিতে উৎপাদন করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মিরাপুর গ্রামের সৌদি ফেরত সফল কৃষক রেজাউল ইসলাম।

এগ্রোওয়ান বীজ কোম্পানির সার্বিক সহযোগিতায় প্রায় ৪০ শতাংশ পতিত জমিতে দুই জাতের সাম্মাম চাষ করে অভাবনীয় সফলতা পেয়েছেন রেজাউল ইসলাম। ৩ মাসে লাভও করেছেন কয়েক লাখ টাকা। অপরদিকে সাম্মাম নতুন ফল হিসেবে বাজারে চাহিদাও রয়েছে অনেক। এক জাতের সাম্মামের বাহিরের অংশ সবুজ আর ভিতরে লাল এবং আরেক জাতের সাম্মামের বাহিরের অংশ হলুদ আর ভিতরের অংশ লাল। তবে দুটি ফলই খেতে মিষ্টি, সুস্বাদু ও সুগন্ধযুক্ত। প্রতিদিন সাম্মামের এই ক্ষেত দেখতে আসছেন আশেপাশের উৎসুক মানুষরা। কেউ কেউ আগামীতে নতুন জাতের এই রসালো ফল উৎপাদনের জন্য পরামর্শও নিচ্ছেন।

বীজ বোপনের দেড় মাসের মধ্যেই ফল আসতে শুরু করে। তিন মাসের মধ্যেই পরিপক্ক হয়। সাম্মাম ফলের তেমন একটা রোগবালাই নেই; একটি গাছে মাত্র একটি ফল ধরে। পতিত দেড় বিঘা জমিতে প্রায় এক টন ফল উৎপাদন হয়েছে। একেকটি সাম্মাম ফল ২ থেকে আড়াই কেজি ওজন। প্রতি কেজি ১৫০ টাকা ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। এগ্রোওয়ান কোম্পানি ফলটি বাজারজাত করতে সার্বিক সহযোগিতা করেছে। তাই ফলটি বাজারজাত করার জন্য আলাদা করে ঝামেলা পোহাতে হয়নি। রেজাউলের দেখাদেখি স্থানীয় বাসিন্দারা পতিত জমিতে কম পরিশ্রম ও খরচে সহজেই এই ফলটি চাষ করে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। এক বিঘা জমিতে সাম্মাম চাষ করতে খরচ হয়েছে ৪০-৫০ হাজার টাকা আর সাম্মাম ফল বিক্রি হয়েছে আড়াই থেকে ৩ লাখ টাকা।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক করোনা ভাইরাসের এই মহামারির সময়ে কোন জমিই ফেলে না রেখে স্মার্ট কৃষিতে লক্ষ্যপ্রতি প্রকল্পের মাধ্যমে রেজাউল ইসলামকে অনুপ্রানিত করে এই সাম্মাম ফল চাষ শুরু করেছি। এই ফল চাষে উদ্বুদ্ধ সকলকেই আমরা সার্বিক সহযোগিতা করবো। প্রচলিত ফলের পাশাপাশি বিদেশী এই ফল চাষ করে কৃষক রেজাউল ইসলাম অনেক লাভবান হয়েছেন। যেহেতু এটি নতুন একটি ফল তাই পরবর্তিতে গবেষনা করে এই ফসল চাষে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। যেহেতু এটি বিদেশী ফল; তাই বাংলাদেশে এই ফল নিয়ে গবেষনা করে আগামীতে আরো কম খরচে এই ফলের বীজসহ অন্যান্য উপকরন কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার দাবী সচেতনমহলের।

প্রবাস টাইম সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

রিলেটেড নিউজ
© 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
Technical Support By NooR IT
error: Content is protected !!