শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, ১২:৪১ পূর্বাহ্ন

জুনমাসে ওমান প্রবাসীদের রেমিটেন্স প্রেরণে নতুন রেকর্ড

ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২০
জুনমাসে ওমান প্রবাসীদের রেমিটেন্স প্রেরণে নতুন রেকর্ড

মহামারী করোনার মধ্যেও রেমিটেন্স প্রেরণে রেকর্ড করেছে ওমান প্রবাসীরা। বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রকোপের মধ্যেও জুন মাসে প্রবাসথেকে মোট রেমিটেন্স এসেছে ১৮৩ কোটি ডলার। এর আগে কোনো একক মাসে এত আয় আসেনি। সব মিলিয়ে সদ্য সমাপ্ত ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবাসীদের ১ হাজার ৮২০ কোটি ডলার আয় দেশে এসেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ বেশি। এই আয়ের ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ৬১৪ কোটি ডলার। এর ফলে তিন রেকর্ড হয়েছে। এক মাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়, রিজার্ভ নতুন উচ্চতায় ও প্রবাসী আয়ে ১১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।

বিশ্বের যেসব দেশ থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে, তার মধ্যে শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে রয়েছে ওমান। প্রবাসী আয় আহরণের শীর্ষ দেশের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), যুক্তরাষ্ট্র, কুয়েত, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, ওমান, কাতার, ইতালি, বাহরাইন, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, ফ্রান্স, দক্ষিণ কোরিয়া ও জর্ডান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে আয় এসেছে ১৮৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এর আগে ২০১৯ সালের মে মাসে সর্বোচ্চ ১৭৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার আয় এসেছিল। এদিকে সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে মোট প্রবাসী আয় এসেছে ১ হাজার ৮২০ কোটি ডলার। এর আগের অর্থবছরে আয় এসেছিল ১ হাজার ৬৪১ কোটি ডলার। অর্থাৎ সদ্য শেষ হওয়া অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে ১০ দশমিক ৯০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। জুন মাসে প্রবাসী আয় এসেছে ১৮৩ কোটি ডলার, যা এক মাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় পাঠানোর রেকর্ড। এর ফলে রিজার্ভ উঠল নতুন উচ্চতায়; প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি ১১ শতাংশ।

 

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান এবং এনআরবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহমুদ হোসেন বলেন, প্রণোদনা দেওয়ায় চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে আয় আসা বেড়েছে। করোনার কারণে অনেক প্রবাসীকে দেশে ফেরত আসতে হয়েছে, অনেকে আসার অপেক্ষায়। তাঁরা জমানো টাকা ভেঙে ধীরে ধীরে পাঠাচ্ছেন। অনেক দেশেই টাকা পাঠানোর সীমা বেঁধে দেওয়া আছে। এ জন্য আগামী দুই মাসও ভালো প্রবাসী আয় আসবে।

আরও পড়ুনঃ অবশেষে বাংলাদেশেই আবিষ্কার হচ্ছে করোনার ভ্যাকসিন!

মেহমুদ হোসেন বলেন, সমস্যা হলো এত প্রবাসী দেশে ফিরে এলে তাঁদের জন্য তো কিছু করতে হবে। এ জন্য নতুন কাজ, উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নিলে ভালো হয়। না হলে এসব পরিবার একসময় দারিদ্রসীমার নিচে চলে যাবে। পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেলাল আহমেদ চৌধুরী বলেন, যাঁরা আসছেন, তাঁরা চাকরি শেষ করে আসছেন। এ জন্য সামনে প্রবাসী আয়ের বড় ধাক্কা লাগতে পারে। অনেক দেশে লোকবল প্রয়োজন পড়ছে। নতুন করে কীভাবে জনশক্তি পাঠানো যায়, সেদিকে নজর দিতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের দাবী, সরকার যদি এই মুহূর্তে প্রবাসীদের প্রতি বিশেষ নজর না দেয়, তাহলে সামনে রেমিটেন্স প্রবাহে ব্যাপক ধ্বস নামার আশংকা রয়েছে। সেইসাথে এই মুহূর্তে যারা প্রবাস থেকে ফেরত এসেছে, তাদের জন্য কর্মসংস্থানের বিশেষ ব্যবস্থা করতে হবে এবং যারা বিদেশে আটকা আছেন, তাদেরকে দেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা করতে হবে।

আরও দেখুনঃ ওমানে বাংলাদেশির কোটি টাকার বাইক 

প্রবাস টাইম সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

রিলেটেড নিউজ
© 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
Design by : NooR IT
www.ashrafalisohan.com
error: Content is protected !!