শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২০, ০১:০০ পূর্বাহ্ন

প্রবাসবান্ধব মন্ত্রী ড. আবদুল মোমেন সফল মানুষের প্রতিচ্ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২০
  • ১৩৭
প্রবাসবান্ধব মন্ত্রী ড. আবদুল মোমেন সফল মানুষের প্রতিচ্ছবি

দেশের আলোকিত পরিবারের সদস্য ড. মোমেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই প্রবাসীদের জন্য একের পর এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিচ্ছেন। ড. মোমেনের বাবা অ্যাডভোকেট আবু আহমদ আবদুল হাফিজ ছিলেন একজন বলিষ্ঠ আইনজীবী এবং রাজনীতিবিদ। মোমেনর মাতা সৈয়দা শাহার বানু ছিলেন আসাম পার্লামেন্টের প্রথম মুসলিম নারী এমপি। তিনি ছিলেন ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক এবং সিলেটে নারী জাগরণের অগ্রদূত। তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ভাষা আন্দোলন এবং সিলেটের ঐতিহাসিক গণভোটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

টানা তৃতীয় মেয়াদে শেখ হাসিনার নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান ড. এ কে আবদুল মোমেন। বিদায়ী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ভাই মোমেন জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তার দায়িত্ব পালনকালেই বাংলাদেশ সর্বোচ্চ সংখ্যক জাতিসংঘের অধীনে শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোর মর্যাদা লাভ করে। এ সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ মহিলা শান্তিরক্ষী বাহিনী এবং নেভাল ফোর্স পাঠানো শুরু করে।

একনজরে ড. এ কে আবদুল মোমেন

ড. মোমেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিএ (অনার্স) ও এমএ, এলএলবি, এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে পিএইচডি (অর্থনীতি), এমপিএ (হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়) করেন। কর্মজীবনের শুরুতেই স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী দেওয়ান ফরিদ গাজীর একান্ত সচিব হিসাবে বাংলাদেশের ওয়েজ আর্নার স্কিম চালু করেন। এটি বঙ্গবন্ধু সরকারের উল্লেখযোগ্য অবদান।

২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ড. মোমেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি এ দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ সংখ্যক শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোর মর্যাদা লাভ করেন। এ ছাড়া তার সময়ই বাংলাদেশ থেকে নারী শান্তিরক্ষী, নেভাল ফোর্স প্রথম পাঠানো হয়। জাতিসংঘের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমুদ্র বিজয়, জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে ক্ষতিপূরণের দাবি, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন ড. এ কে আবদুল মোমেন।

 

ড. এ কে আব্দুল মোমেন বাংলাদেশের নারী ও শিশু পাচার বন্ধে বিশ্বজুড়ে আন্দোলন গড়ে তোলেন। ফলে ১৯৯২ সালে মুম্বাই থেকে ২৫টি শিশু এবং পাকিস্তান থেকে অসংখ্য মেয়েকে ফিরিয়ে আনা হয়। নারী ও শিশু পাচার বন্ধ, অপ্রাপ্ত বয়স্ক নারীদের খৎনা, শিশুদের উটের ঝুঁকি বন্ধকরণসহ বিশ্বে জনমত গড়ে তোলেন তিনি। ড. মোমেনের বলিষ্ঠ ভূমিকায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার ১৯৯৪ সালে দুটি বিল পাস করে। ড. মোমেনের এ উদ্যোগ বিশ্ব মিডিয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ১৯৯৪ সালে বিল ক্লিনটন তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে অনুপ্রেরণা যোগান।

বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রকল্পে অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে কৃতিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। সৌদি আরবে কর্মরত অবস্থায় তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কাজ করেন। এ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে অনাকাঙ্ক্ষিত শিশুশ্রম, শিশুকে জঙ্গি হিসেবে ব্যবহার এবং শিশু যৌনকর্মী ব্যবহারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন। ড. এ কে আবদুল মোমেন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় দুই যুগ শিক্ষকতা করেছেন।

 

ড. মোমেন বোস্টনের ‘উইম্যান অ্যান্ড চিলড্রেন’মানবিক প্রতিষ্ঠানের সভাপতি। সিনেটর কেনেডির পত্র নিয়ে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নারী ও শিশু পাচার বন্ধ ও ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসনের জন্য তহবিল গড়ার আহ্বান জানান তিনি।

ড. মোমেন ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল ইন্সটিটিউট হাসপাতালে কয়েক কোটি টাকার সরঞ্জামের ব্যবস্থা করে দেন। এ ছাড়া সন্দ্বীপে স্কুল কাম সেন্টার স্থাপনে ৭৫ হাজার মার্কিন ডলার দানে প্রধান ভূমিকা রাখেন। ঢাকার মহিলা পরিষদের আবাসিক, গ্রামীনব্যাংকের ফান্ড, ব্র্যাকের বিভিন্ন সেবা কাজে, ঢাকা মেট্রোপলিটন লায়ন্স ক্লাবকে শিক্ষা ও চক্ষু প্রজেক্ট বাস্তবায়ন, গাজীপুরে কিশোরী মেয়েদের সেবা হোমসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাহায্য সহযোগিতা করেন। তাকে বিশ্বের অনেক সংস্থা, অনেক ব্যক্তি বিভিন্ন সম্মাননা প্রদান করে।

ড. মোমেনকে ১৯৯০ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত মানব কল্যাণে অবদানের জন্য মার্কিন পত্রিকা ঈগল ট্রাইবুন ‘হোম টাউন হিরো’, মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন ‘‘হিউমেনিটারিয়ান অ্যাওয়ার্ড,’ ও নিউ ইয়র্কের প্রবাসী সংস্থা ‘ফ্রেন্ডস অব দি পুওর’উপাধিতে ভূষিত করে।

 

অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের একান্ত সচিব থাকা অবস্থায় অনেক ঝক্কি ঝামেলা মোকাবেলা করে দেশের চা-বাগানগুলো ব্যক্তি মালিকানায় দেয়ায় ভূমিকা রাখেন আবদুল মোমেন। ১৯৮৮-৮৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক প্রেসিডেন্সিয়াল পদপ্রার্থী মাইকেল ডুকাকিসের উপদেষ্টা ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসীদের ‘মহাসম্মেলন বাংলাদেশ’এর প্রতিষ্ঠাতা এবং বোস্টনে ফোবানার তৃতীয় মহাসম্মেলনে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন আবদুল মোমেন।

বাংলাদেশের প্রত্যেক গণতান্ত্রিক দল একযোগে যখন স্বৈরাচার এরশাদ সরকার হঠাও আন্দোলন করে আশানুরূপ ফল পাচ্ছিল না তখন ড. মোমেন ১৯৮৮ সালে ইউএস কংগ্রেসে এরশাদ সরকারের ওপর এক শুনানির আয়োজন করেন। ফলে এরশাদের পতনের শুভসূচনা ঘটে।

 

১৯৯০ সালে বাংলাদেশে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা হলে আমেরিকার বিভিন্ন টিভি অনুষ্ঠানে ড. মোমেনের বক্তব্যে ৪৫ হাজার মার্কিন ডলার সাহায্য সংগ্রহ করে দেশে পাঠানো হয়। এছাড়া ‘ম্যাসাচুচেস্ট সিনেট’বাংলাদেশে অধিক সাহায্য পাঠানোর প্রস্তাব গ্রহণ করে এবং জর্জ বুশ বাংলাদেশে মেরিনদের সাহায্য দাতা হিসেবে পাঠায়।

১৯৯০ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধে বাংলাদেশের ব্যাপক ক্ষতি হলে ড. মোমেন অনেক শ্রম, অনেক চেষ্টা, অনেক তদবিরের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ মওকুফ করান। এ ছাড়া বিল ক্লিনটন সরকারকে দিয়ে আরও ৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ মওকুফ করান। শুধু তাই নয়; আরও ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ মওকুফের জন্য তৎকালীন এরশাদ সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আবেদনের অনুরোধ করেন।

 

যদিও ১৯৮২ সালে এই এরশাদ সরকার ড. মোমেনকে জোরপূর্বক অবসরে পাঠায়। তারপরও ড. মোমেন দেশের অসহায় দুর্গত মানুষের কথা চিন্তা করে অনেক মান অপমান সহ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ঋণ মওকুফের ব্যবস্থা করে দেন। যা একজন দেশপ্রেমিকের দ্বারাই সম্ভব।

ড. মোমেনের প্রচেষ্টায় ১৯৮৯ সালে ইউএস কংগ্রেসে বন্যার ওপর একটি শুনানি হয়। ফলে বাংলাদেশের জন্য ১৫০ মিলিয়ন ডলার সাহায্য বরাদ্দ হয়। ১৮৮৯ সালে ‘ম্যাসাচুচেস্ট সিনেট’গভর্নর ড. মোমেনের বাংলার মানুষ ও মানবতার কাজের জন্য ‘আম্বাসেডর অব গুডউইল’উপাধি দেন।

আরও পড়ুনঃ ওমানে কমছে বাংলাদেশি প্রবাসীর সংখ্যা

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইউনিসেফ নির্বাহী বোর্ডের সভাপতি ছিলেন। ৬৭তম জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে উপ-সভাপতি এবং সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জাতিসংঘে যোগ দেয়ার আগে ড. মোমেন জাতিসংঘের পিস বিল্ডিং কমিশনের সভাপতি ছিলেন। তিনি ফ্রামইংহাম স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ব্যবসায় প্রশাসন ও অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৩ সালে সৌদি আরবের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। সৌদি আরবে কর্মরত অবস্থায় তিনি প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও সোচ্চার ছিলেন।

আরও দেখুনঃ ওমান থেকে বাংলাদেশের ফ্লাইটের ব্যাপারে যা বললেন রাষ্ট্রদূত 

প্রবাস টাইম সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

রিলেটেড নিউজ
© 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
Design by : NooR IT
www.ashrafalisohan.com
error: Content is protected !!