বুধবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন

মানবপাচারের দায়ে কুয়েতের রিমান্ডে এমপি পাপুল

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২০
  • ২৩৩
মানবপাচারের দায়ে কুয়েতের রিমান্ডে এমপি পাপুল

কুয়েতে আদম ব্যবসায় অনিয়ম এবং অর্থপাচারের অভিযোগে কুয়েতে আটক লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সাংসদ (এমপি) কাজী শহিদ ইসলাম ওরফে পাপুলকে রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির পাবলিক প্রসিকিউটর। কুয়েতের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) আবেদনের প্রেক্ষিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত শনিবার রাতে কুয়েত সিটির মুশরিফ এলাকার বাসা থেকে এমপি পাপুলকে আটক করে তাদের দফতরে নিয়ে যায় সিআইডি। কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাত দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার আটকের খবর নিশ্চিত করে। তার বিরুদ্ধে মানব পাচার ও অবৈধ মুদ্রা পাচারের অভিযোগে দায়ের হয়েছে।

সিআইডি জানতে পেরেছে, কুয়েতে পাপুলের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিনি কুয়েতে ভিসা বাণিজ্যের নামে মানব পাচার ও অবৈধ মুদ্রা পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ভিত্তিক ইংরেজি দৈনিক গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তাকে সেখানে ব্যবসায়ের কারণে উত্থাপিত একটি মামলায় সাংসদ পাপুলকে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছেন।

কুয়েত থেকে প্রকাশিত আরব টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিআইডি কর্মকর্তারা পাঁচ বাংলাদেশিকে জেরা করে জানতে পেরেছে তাদের প্রত্যেকেই কুয়েত যেতে সাংসদ পাপুলকে তিন হাজার দিনার করে দিয়েছিলেন। এছাড়াও প্রতি বছর তারা ভিসা নবায়নের জন্য সাংসদকে বাড়তি টাকা দিয়েছেন।

তাদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সাংসদ কাজী শহিদের বিরুদ্ধে মানব পাচার ও অবৈধ মুদ্রা পাচারের অভিযোগ এনেছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। এর আগেও কুয়েতের একাধিক সংবাদমাধ্যমে পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচারে জড়িত থাকার খবর প্রকাশিত হয়।

গত মার্চে কুয়েতে যাওয়ার পর থেকে তিনি দেশটির সিআইডি কর্মকর্তাদের নজরবন্দি ছিলেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। উল্লেখ, এমপি পাপুলের কুয়েতে বিরাট ব্যবসা রয়েছে। কুয়েত সিআইডির মানব ও অর্থ পাচারকারীদের তালিকায় আরও আগে থেকেই তার নাম ছিল।

অবশ্য কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের গণমাধ্যম বাংলাদেশের সাংসদের গ্রেপ্তারের খবর প্রচার করলেও এ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানতে পারেনি সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাস। ব্যক্তিগত ভাবে যাওয়ায় পাপুল সবুজ পাসপোর্টে নিয়ে কুয়েত গেছেন। সাধারণত মন্ত্রী, সাংসদ, কূটনীতিকেরা লাল পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশ সফর করেন।

আরও পড়ুনঃ করোনা ভাইরাসের তিনটি জেনেটিক্স উদ্ভাবন করেছে ওমান

কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল গত ৩০ বছর ধরে কুয়েতে ব্যবসা করছেন। মারাতিয়া কুয়েতি গ্রুপ অব কোম্পানির স্বত্বাধিকারী তিনি। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-২ রায়পুর আসনে ১৪ দলীয় জোট ও জাতীয় পার্টির সমঝোতার মাধ্যমে মনোনয়ন পেয়েছিলেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ নোমান। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন পাপুলসহ আরও অনেকে। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে আপেল প্রতীক নিয়ে তিনি স্বতন্ত্র নির্বাচন করেন। পরে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ নোমান। তখন বিপুল আলোচনা ছিল যে, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে পাপুল ১৪ দলীয় প্রার্থী নোমানকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেন।

আরও দেখুনঃ আমি আত্নহত্যা পর্যন্ত করতে চেয়েছিলাম! ওমানে এক গৃহকর্মীর জীবন

প্রবাস টাইম সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

রিলেটেড নিউজ
© 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
Technical Support By NooR IT
error: Content is protected !!