রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন

মানব পাচারের অভিযোগে কুয়েতে এমপি পাপুল গ্রেপ্তার

  • প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২০
এমপি পাপুলের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে কুয়েত, ফেঁসে যেতে পারেন আরও অনেকেই

কুয়েতে আদম ব্যবসায় অনিয়ম এবং হাজার কোটি টাকার কারবারে অভিযুক্ত বাংলাদেশি সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল গ্রেপ্তার হয়েছেন। গত রাতে দেশটির ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট সিআইডি তাকে আটক করে। কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এস এএম আবুল কালাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি দেশের একটি মিডিয়াকে বলেছেন, সকালে তিনি তার আটকের বিষয়টি জেনেছেন। কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল লক্ষীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য।

উল্লেখ্যঃ কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল গত ৩০ বছর ধরে কুয়েতে ব্যবসা করছেন। মারাতিয়া কুয়েতি গ্রুপ অব কোম্পানিজের স্বত্বাধিকারী তিনি। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-২ রায়পুর আসনে ১৪ দলীয় জোট ও জাতীয় পার্টির সমঝোতার মাধ্যমে মনোনয়ন পেয়েছিলেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ নোমান। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন পাপুলসহ আরও অনেকে। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে আপেল প্রতীক নিয়ে তিনি স্বতন্ত্র নির্বাচন করেন। পরে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ নোমান। তখন বিপুল আলোচনা ছিল যে, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে পাপুল ১৪ দলীয় প্রার্থী নোমানকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেন।

কাজী শহীদ ইসলাম পাপলুর স্ত্রী কাজী সেলিনা ইসলামও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।পাপুলের বিরুদ্ধে মানব পাচারের খবর জেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনার ঝড় ওঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অনেকে এই সাংসদকে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করছেন।

সম্প্রতি কুয়েতের সিআইডির বরাত দিয়ে বাংলাদেশ থেকে মানবপাচার নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে দেশটির পত্রিকা আল কাবাস ও আরব টাইমস। কুয়েতি গণমাধ্যম ওই সাংসদের নাম উল্লেখ না করলেও দেশের একটি গণমাধ্যমের খবরে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম পাপলুর নাম এসেছে। স্বতন্ত্র এই সাংসদসহ তিনজনের চক্রটি অন্তত ২০ হাজার বাংলাদেশিকে কুয়েতে পাঠিয়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা আয় করেছে বলে কুয়েতের সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়।

ওই দেশটির ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট সিআইডির অভিযানের মুখে কুয়েত ছেড়েছেন পাপুল। মানবপাচারকারী সিন্ডিকেটগুলোর বিরুদ্ধে কুয়েত সরকার সম্প্রতি সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে। অভিযান নিয়ে কুয়েতের সংবাদ মাধ্যমগুলো সিরিজ রিপোর্ট করছে। সেখানে ওই এমপি ছাড়াও আরও দুজনের নাম এসেছে।

তাদের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকার কারবারে রয়েছে অর্থপাচার, মানবপাচার ও ভিসা জালিয়াতির অভিযোগ। তদন্ত শুরু করেছে কুয়েতের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। একই অভিযোগে এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তিনজন নিয়ে গঠিত চক্রের অন্য দুই সদস্য কুয়েত ছেড়ে পালিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ ওমানে এনওসি প্রথা বাতিল

তাদের বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে গৃহকর্মী হিসেবে ২০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিককে কুয়েতে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। শ্রমিকদের কুয়েতে পাঠানোর বিনিময়ে ৫ কোটি কুয়েতি দিনার বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকার বেশি নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয় প্রতিবেদনে।

আরও দেখুনঃ করোনা সঙ্কটেও ঈদের মাসে দেড় বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স প্রবাসীদের

প্রবাস টাইম সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

রিলেটেড নিউজ
© 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
Design by : NooR IT
www.ashrafalisohan.com
error: Content is protected !!