রবিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০৩ পূর্বাহ্ন

করোনায় বড় কষ্টে আছেন প্রবাসী শ্রমিকেরা

ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২০
  • ৭৯
মালয়েশিয়া প্রবাসীদের জন্য সুখবর
ফাইল ছবিঃ

মহামারি করোনায় প্রতিদিন নয়, প্রতিমুহূর্তে বিদেশ থেকে দুঃসংবাদ আসছে। করোনাভাইরাস প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের জীবন তছনছ করে দিয়েছে। অনেকে কাজ হারিয়ে দিশেহারা। কেউ কেউ আক্রান্ত স্বজনদের জন্য হাসপাতালে ছোটাছুটি করছেন। আবার অনেকে ‘শোক সংবাদ’ হয়ে গেছেন।

এক কথায় করোনায় তছনছ গোটা বিশ্ব। বিপর্যস্ত বিশ্বের অর্থনীতিও। মহামারীর কারণে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি। এসব দেশ থেকে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশিকে ফিরে আসতে হয়েছে, উৎকণ্ঠায় রয়েছেন কাগজ-পত্রহীন বাংলাদেশিরাও। তাদের সঙ্কট সমাধানে দূতাবাসের মাধ্যমে সহযোগিতার পাশাপাশি বিশেষ প্রণোদনার কথা জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

কোভিড-নাইনটিনের কারণে দেশে দেশে বন্ধ রয়েছে শিল্প প্রতিষ্ঠান, হোটেল, মোটেলসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। একারণে বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। থাকা-খাওয়া এবং বাধ্যতামূলক করোনাভাইরাস পরীক্ষার ব্যয় ভার বহন করতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

 

অনেকের অভিযোগ করেন, প্রবাসীদের কারণেই বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। কথাটি সত্য নয়। চীনে প্রথম করোনার প্রাদুর্ভাব ঘটার পর যখন সেখান থেকে দলে দলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা ফিরে এলেন, চীনা নাগরিকেরা এলেন, তখন কিন্তু দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব ঘটেনি। কেননা সরকার সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছিল। চীনফেরত প্রত্যেকের শরীর পরীক্ষা করে কোয়ারেন্টিনে পাঠিয়ে দিয়েছিল।

পরে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসী শ্রমিকেরা আসতে থাকলে সংশ্লিষ্টরা পরীক্ষার কথাটি ভুলে গেলেন। কোয়ারেন্টিনে রাখার কথা ভুলে গেলেন। বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করেই অনেককে ছেড়ে দিয়েছিল। ওই সময়ে শুধু প্রবাসীরা বাংলাদেশে আসেননি। যারা বিদেশে বেড়াতে বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন, তাঁরাও এসেছেন। এসেছেন অনেক বিদেশি নাগরিকও। তাই, দেশে করোনা ছড়ানোর জন্য প্রবাসীদের দায়ী এ কথা বলা যাবে না। এ জন্য যদি কাউকে দায়ী করতে হয়, কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতা।

 

করোনাকালে আমরা কেউ ভালো নেই। দেশের ভেতরে কিংবা বাইরে। পার্থক্য হলো, দেশের ভেতরে থাকলে অন্তত ভিসার মেয়াদের জন্য দুশ্চিন্তা করতে হয় না। বাইরে সেটিও করতে হয়। করোনায় প্রবাসীরা ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এরই মধ্যে অনেকে চাকরি হারিয়েছেন। অনেকে হারানোর পথে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিক বেতন অর্ধেক করে দিয়েছেন। কিন্তু সরকারের সহায়তা কর্মসূচিতে তাঁদের জায়গা হয়নি, প্রবাসী কল্যাণ তহবিল থেকে যে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।

সরকার কয়েক দফায় প্রায় এক লাখ কোটি টাকার সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে ধনী শিল্পমালিক থেকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষও আছেন। আছেন চিকিৎসক–স্বাস্থ্যকর্মীরা। কিন্তু প্রবাসীরা নেই। অথচ প্রবাসীদের অবদানের কথা বলতে বলতে মন্ত্রী–নেতারা মুখে ফেনা তুলে ফেলেন। যে প্রবাসীরা আমাদের অর্থনীতির অন্যতম চলনশক্তি, যারা বছরে ১৬ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠান, তাঁদের জন্য কোনো সহায়তা কর্মসূচি নেই!

 

রোজগার বন্ধ হওয়া প্রবাসীরা খাবে কী? সরকার বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে প্রবাসীদের সহায়তা করার জন্য। এ জন্য বিভিন্ন মিশনে কিছু অর্থও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বরাদ্দ টাকায় প্রয়োজনের এক–দশমাংশও মিটবে না। আবার লকডাউনের জন্য সবার কাছে পৌঁছানোও সম্ভব হবে না। এসব প্রবাসী শ্রমিক ধারদেনা করে এক–দুই মাস হয়তো চলতে পারবেন। কিন্তু সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে কী হবে? করোনা সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে এসেছে। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো আরও বেশি সংকটে পড়বে। তাদের অর্থনীতি স্থবির হবে। যে প্রবাসী শ্রমিকদের আয় আমাদের অর্থনীতিতে গতিসঞ্চার করেছিল, সেই শ্রমিকদের দেশে ফিরে আসতে হতে পারে। ইতিমধ্যে যেসব শ্রমিকের পক্ষে দেশে টাকা পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না, তাঁদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলো কীভাবে চলছে, সেই খোঁজ কেউ নিচ্ছেন না। এ রকম পরিবারের সংখ্যা হবে কয়েক লাখ।

 

ইতিমধ্যেই নানা কারণে ফিরে আসতে হচ্ছে অনেক রেমিটেন্স যোদ্ধাকে। শুধু ফেব্রুয়ারি মাসেই দেশে এসেছেন প্রায় ৬ লাখ প্রবাসী। মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে অবৈধভাবে বসবাস করা বাংলাদেশিরাও রয়েছেন জোর করে ফেরত পাঠিয়ে দেয়ার ঝুঁকিতে। এসবের কারণে ইতোমধ্যে রেমিটেন্স প্রবাহে লেগেছে ভাটার টান। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা এই পরিস্থিতি আরও দীর্ঘ হলে তা দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।

আরও পড়ুনঃ ওমানে বাড়ছে আক্রান্ত, শিথিল হচ্ছে লকডাউন

এ অবস্থায় প্রবাসী শ্রমিক ও তাদের পরিবারবর্গের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরির কথা জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন বলেন, মিশনের মাধ্যমে এরইমধ্যে ১০ কোটির বেশি টাকা আমরা দিয়েছি। যারা কোনো কারণে দেশে যেতে চাচ্ছে তারা যেন ভালোভাবে যেতে পারে সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

 

প্রবাস টাইম সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

রিলেটেড নিউজ
© 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
Technical Support By NooR IT
error: Content is protected !!