বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ০৯:০২ অপরাহ্ন

২মাসেই রেমিট্যান্স কমেছে তিন হাজার কোটি টাকা

  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২০
দেশে রেমিট্যান্স প্রেরণে পঞ্চম স্থানে ওমান
ফাইল ছবিঃ

বিশ্বে করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বের অর্ধেক মানুষ আজ গৃহবন্দি। যেকারণে সবচেয়ে বিপাকে আছে নিম্নআয়ের মানুষেরা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি খারাপ পরিস্থিতিতে রয়েছে বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীরা। টানা কোয়ারেন্টাইনে থেকে অলস সময় কাটছে তাদের। সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কাজহীন অলস সময় পার করছেন তারা। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিদেশের মাটিতে মারা গেছেন অনেকে। সবচেয়ে বেশি বিপদে আছেন যাদের বৈধ ভিসা নেই। এদের বড় অংশই কাজ ও আয়ের অভাবে না খেয়ে দিনাতিপাত করছেন। প্রবাসীরা হলো রেমিট্যান্স যোদ্ধা। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখে আমাদের প্রবাসীরাই।

যেকারনে দেশে টাকা পাঠানো দূরে থাক, নিজের খাবারের অর্থ-ই এখন অনেক প্রবাসীর নাই। অনাহারে রয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের লক্ষাধিক প্রবাসী শ্রমিক। এমতাবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের দাবি তুলেছেন বাংলাদেশিরা।

অন্যদিকে প্রবাসীদের এই দুরবস্থা রেমিট্যান্সেও প্রভাব পড়েছে। গত দুই মাসে ৩৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স কমেছে। যা স্থানীয় মুদ্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। এ অবস্থায় প্রবাসীদের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসের মাধ্যমে সহায়তার কথা বলছেন, অর্থনীতিবিদ ও এ খাতের সংশ্লিষ্টরা।

বিভিন্ন দেশ করোনা মোকাবেলায় সাধারণ জনগণের খাদ্য-নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে আসছে। বাংলাদেশের সরকারও পিছিয়ে নেই। দেশে সুযোগ সন্ধানীরাও যেন বসে নেই। দলীয় পরিচয়ে তৎপর তারা। নিম্ন আয়ের মানুষ ছুটছে ত্রাণের খোঁজে। এমন পরিস্থিতিতে প্রবাসীর অনেক পরিবারেই রয়েছে বিভিন্ন সমস্যায়।

বাংলাদেশের অনেক জেলায় বহুসংখ্যক পরিবার রয়েছে যারা একমাত্র বৈদেশিক আয়ের উপর নির্ভরশীল। প্রতি মাসে প্রবাস হতে টাকা আসে আর সেই টাকায় ওসব পরিবারের জীবন যাপন চলে। প্রবাসীনির্ভর পরিবারগুলো করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছে। তাদের অনেকেই পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। অনেক সংসারের চাকা ঘুরে প্রবাসের টাকায়। তাই পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে নিয়ে চিন্তিত স্বজনরা।

একদিকে প্রবাসীরা বিভিন্ন দেশে শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন, অন্যদিকে তাদের স্বজনরা দেশে থেকেও শান্তিতে নেই। প্রিয় মানুষগুলোর জন্য তাদের প্রতিটা মুহূর্ত কাটছে নানা চিন্তায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ইচ্ছে করলেই প্রবাসীরা দেশের স্বজনদের কাছে আসতে পারবেন না। এমনকি আক্রান্ত হলে তাদের সেবা করার সুযোগও থাকছে না। মহামারি করোনাভাইরাস প্রবাসীনির্ভর পরিবার গুলোর অবস্থা চরম খারাপ করে ফেলেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই কঠিন পরিস্থিতিতে প্রবাসী নির্ভরশীল পরিবারগুলো খুবই কষ্টে দিনযাপন করছে। কর্মহীন প্রবাসীরা দেশে টাকা পাঠাতে পারছে না। যেকারনে দেশের রিজার্ভে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোসহ বিকল্প কর্মসূচি নিয়ে ভাবতে হবে।

এদিকে বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসীদেরকে দেওয়া হচ্ছে খাদ্য সহায়তা। এ সহায়তা কেউ পাচ্ছেন আবার কেউ পাচ্ছেন না এমন অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু এই সহায়তা নির্দিষ্ট একটি আবেদনের মাধ্যমে দেয়া হচ্ছে। এমনটি জানালেন সংশ্লিষ্টরা। বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম চালাচ্ছে। সহায়তা পাওয়া অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে স্ট্যাটাসও দিয়েছেন। এই সহায়তা পর্যাপ্ত নয় বলেও অভিযোগ করেছে অনেক প্রবাসী।

 

প্রবাস টাইম সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

রিলেটেড নিউজ
© 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
Design by : NooR IT
www.ashrafalisohan.com
error: Content is protected !!